Monday, October 5, 2020

টক দইয়ে মুশকিল আসান, ত্বকের একগুচ্ছ সমস্যা মেটাতে বেছে নিন ঝটপট




বিউটি পার্লার বন্ধ, ফলে ত্বকের নিয়মিত পরিচর্যা করা শিকেয় উঠেছে অনেকের। রান্নাঘরের এটা ওটা সরঞ্জাম দিয়ে ফেস প্যাক বানিয়ে নেওয়ার নানান প্রেসক্রিপশন থাকলেও সংসার আর অফিস সামলে অত রূপটান কতজনই বা ব্যবহার করে উঠতে পারেন? তার চেয়ে ভালো হয় না, যদি একটাই উপাদান মেখে ত্বকের সম্পূর্ণ যত্ন নেওয়া যায়? সেরকমই একটি উপাদান হল টক দই। লকডাউনের বাজারে আর সব কিছু বন্ধ থাকলেও দইয়ের অভাব হয়নি কখনও। সেই দইই এবার মেখে নিন মুখে, একগুচ্ছ ত্বকের সমস্যার সমাধান পেয়ে যাবেন।


ব্রণ উপশমে

এক টেবিলচামচ টক দই নিয়ে তাতে তুলো ডুবিয়ে ভিজিয়ে নিন। ব্রণর উপরে লাগিয়ে রাখুন। রাতে লাগালে সকালে ঘুম থেকে উঠে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলবেন। দিনে লাগালে ঘণ্টা দুয়েক লাগিয়ে রাখুন, তারপর ধুয়ে নিন। দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্রণ চটপট শুকিয়ে দেয়।


ডার্ক সার্কলের সমস্যায়

লকডাউনের টেনশনে চোখের কোলে কালি? টক দইয়ে তুলো ডুবিয়ে চোখের কোলে আলতো করে লাগিয়ে নিন। দশ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। দই চোখের কোলের ফোলাভাব কমায়, ল্যাকটিক অ্যাসিড দূর করে কালো ছোপ।


ত্বকের সংক্রমণে

গায়ে লাল র‍্যাশ বেরিয়েছে? বা অন্য কোনও সংক্রমণ? বেছে নিন টক দই। র‍্যাশের উপরে ক্রিম লাগানোর মতো করে দইয়ের প্রলেপ দিয়ে ব্যান্ডেজ জড়িয়ে রাখুন। যতদিন সংক্রমণ পুরোপুরি না কমছে, দিনে দু'বার এভাবে দই লাগান। দইয়ের প্রোবায়োটিকস যে কোনও সংক্রমণ কমাতে পারে।


দাগছোপ কমাতে

পুরোনো ব্রণর দাগ, মশার কামড়ের দাগ, অন্য যে কোনও দাগছোপ, সব কিছু কমাতেই আপনার ভরসা টক দই। দইয়ের সঙ্গে অল্প পাতিলেবুর রস মিশিয়ে দাগের উপর লাগান, দশ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। কয়েকদিন নিয়মিত লাগালেই দেখবেন দাগ হালকা হতে শুরু করেছে।


রোমছিদ্র সংকুচিত করতে

পরিমাণমতো টক দই নিন, মুখে লাগিয়ে 15 মিনিট রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। হাতে সময় থাকলে বা ইচ্ছে হলে দইয়ের সঙ্গে একটা ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে নিতে পারেন, তাতে কার্যকারিতা আরও বাড়বে।


শুষ্ক ত্বকের সমস্যায়

মুখ খুব ড্রাই লাগছে? খানিকটা দই ক্রিমের মতো করে মুখে মেখে নিন, দশ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। দইয়ের ভরপুর ময়শ্চার ত্বক আর্দ্র আর কোমল করে তুলবে। বাড়তি তরতাজাভাব পেতে দইয়ে খানিকটা গোলাপজল মিশিয়ে নিতে পারেন।

শুধু পেঁপে দিয়েই রুখে দিন ত্বকের নানান সমস্যা





একদিকে ঘরকন্নার কাজ, অন্যদিকে অফিস সামলানো। লকডাউনের বাজারে এই দুটো দিক একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে সামান্য ফুরসতেরও সময় নেই। কাজেই আলাদাভাবে ত্বকের পরিচর্যা করারও প্রশ্ন ওঠে না। যা হোক করে একটু ময়শ্চারাইজার ঘষেই ত্বকচর্চার পর্বে দাঁড়ি টানছেন এমন মেয়ের সংখ্যা কম নয়! তার একটা কারণ যেমন সময়ের অভাব, অন্যটা হল ধৈর্যের অভাব। পাঁচরকমের জিনিস মিশিয়ে প্যাক বানাতে অনেকেরই ধৈর্যে কুলোয় না, আবার সব জিনিস হাতের কাছে পাওয়াও যায় না। কাজেই বাদ পড়ে যায় ত্বকের পুষ্টি।

কিন্তু কেমন হয় যদি একটি মাত্র বেস উপাদান দিয়েই বানিয়ে নিতে পারেন মুখের মুশকিল আসান প্যাক? তাতে কখনও সখনও ছোটখাটো জিনিস যোগ করতে হতে পারে বটে, কিন্তু সে সবও দারণ সহজলভ্য! প্যাক বানানোর পিছনে আপনাকে আলাদা করে সময় দিতেও হবে না। রান্নাঘরে কাজের ফাঁকেই প্যাক মাখাও হয়ে যাবে!

ইন্টারেস্টিং লাগছে? এমন অজস্র উপাদান আপনার হাতের কাছেই রয়েছে যা একটুখানি মুখে মেখে নিলেই আপনার ত্বক পাবে পরিপূর্ণ পুষ্টি, ত্বকের বেশ কিছু সমস্যাও কমবে। যেমন, পাকা পেঁপে। অনেকেই পাকা পেঁপে খেতে ভালোবাসেন। শুধু কয়েকটা টুকরো নিয়ে নিন মুখে মাখার জন্য। আপনার ত্বকের একাধিক সমস্যার সমাধান করবে পাকা পেঁপে। নিজেই জেনে নিন।

গায়ের রং উজ্জ্বল করতে
প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল করে তুলতে চান গায়ের রং? পাকা পেঁপে বেছে নিন। পেঁপেটা চটকে নিন, আধকাপ মতো পরিমাণ হবে। তাতে একটা গোটা পাতিলেবুর নিংড়ে ভালো করে ঘেঁটে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ পুরো মুখে, গলায়, হাতে মেখে আধঘণ্টা রাখুন, তার পর ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলবেন।

গোড়ালির ফাটাভাব কমাতে
যেহেতু বাড়ির অনেক কাজ এখন নিজেকেই করে নিতে হচ্ছে, তাই পায়ের উপরেও চাপ পড়ছে বিস্তর। ফলে গোড়ালির চামড়া ফেটে যাচ্ছে বিশ্রীভাবে! পেডিকিওর করানোর সুবিধে না থাকলে ফাটা গোড়ালির জন্য পাকা পেঁপে কাজে লাগাতে পারেন। পেঁপে চটকে নিন, গোড়ালির ফাটা জায়গাগুলোয় লাগান। কুড়ি মিনিট রেখে হালকা গরমজলে ধুয়ে নিন। গোড়ালির ফাটা, শুকনো চামড়া, চুলকানি বা লালচেভাব, সবই কমে যাবে। পা ধুয়ে নেওয়ার পর খানিকটা অলিভ অয়েল পায়ে মেখে নেবেন।

দাগছোপের উপশমে
মুখে ব্রণর দাগ থেকে শুরু করে হাঁটু বা কনুইয়ের কালচেভাব, সবই কমাতে পারে পেঁপে। তবে তার জন্য দরকার কাঁচা পেঁপে। ব্লেন্ডারে দিয়ে পেঁপের টুকরোটা থেঁতো করে নিন, তাতে একচাচামচ পাতিলেবুর রস মেশান। এবার এই মিশ্রণটা লেপে দিন কনুই আর হাঁটুতে। ব্রণর দাগের উপরেও লাগাতে পারেন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত কয়েকবার করলে দাগ হালকা হতে শুরু করবে।

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে
পেঁপের আলফা হাইড্রক্সিল অ্যাসিড মুখে বয়সের দাগছোপ পড়তে দেয় না, কাছেই ঘেঁষতে দেয় না ত্বকের সূক্ষ্ম রেখা ও বলিরেখাকে। পাশাপাশি পেঁপের ভিটামিন ই আর সি ত্বক তরতাজা করে তোলে। পাকা পেঁপে আধকাপ চটকে তাতে এক টেবিলচামচ দুধ আর অল্প মধু মিশিয়ে মুখে গলায় লাগিয়ে নিন। কুড়ি মিনিট মতো রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু'বার ব্যবহার করলে ম্যাজিকের মতো ফল পাবেন।


যতই গরম পড়ুক, আপনার ত্বক থাকবে হিমশীতল




যত দিন যাচ্ছে গরম ততই বাড়ছে। আর এই লকডাউনের দিনকালে একটু যে খোলা মনে হাওয়া খাবেন তারও উপায় নেই! বাড়ির বাইরে বেরোলেই মাস্কে ঢেকে রাখতে হচ্ছে নাকমুখ। ফলে গরমে ঘাম জমে বিশ্রী অবস্থা হচ্ছে মুখচোখের। স্বাভাবিকভাবেই এই অবস্থা চলতে থাকলে ব্রণ, ফুসকুড়ি, র‍্যাশের আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে, আর সেজন্যই ত্বকের শীতলতা বজায় রাখা খুবই দরকার। এই সময় পর্যাপ্ত জল, ফলের রস খাওয়া যেমন জরুরি, তেমনি দরকার ত্বককে বাইরে থেকে ঠান্ডা রাখা। জেনে নিন কীভাবে কী করলে প্রবল গরমেও আপনার ত্বক থাকবে ঠান্ডা।


মুখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন

বাইরে থেকে ঘরে ঢুকে যেমন ভালোভাবে হাত-পা ধোবেন, তেমনি মুখেও বারবার ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন। সঙ্গে ব্যবহার করুন শসা বা মিন্টের নির্যাস যুক্ত ফেসওয়াশ। ঘরে থাকার সময়ও নির্দিষ্ট সময় অন্তর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। তবে ফেসওয়াশ ব্যবহার করার দরকার নেই।


হাতের কাছে রাখুন ফেসিয়াল মিস্ট

বারবার মুখে জল দিতে ইচ্ছে না করলে ব্যবহার করতে পারেন ফেস মিস্ট। বারদুয়েক স্প্রে করে নিন মুখে, ত্বক থাকবে তরতাজা, সুগন্ধি।


ক্রিম, ময়শ্চারাইজার ফ্রিজে রাখুন

ময়শ্চারাইজার, ক্রিম, বডি লোশনের মতো ত্বক পরিচর্যার সামগ্রী ফ্রিজে রাখার দুটো উপকারিতা আছে। এক, ফ্রিজে রাখলে এ সব জিনিসের কার্যকারিতা অনেক বেড়ে যায়, চট করে নষ্ট হয় না, আর দুই, ত্বক ঠান্ডা থাকে।


চাই ত্বক শীতল রাখার মাস্ক

ত্বক ঠান্ডা রাখতে চাইলে আস্থা রাখুন শসায়। গরমে ত্বক চিড়বিড় করলে, জ্বালা করলে শসার মাস্ক নিমেষে স্নিগ্ধতা জোগাবে। শসা ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিন। তারপর থেঁতো করে রস বের করুন। তুলোয় করে এই রস নিয়ে মুখে মাখুন। পুরো শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলবেন। এতে ত্বক শীতল তো থাকবেই, ত্বকের আর্দ্রতাও বজায় থাকবে।


আইস আইস বেবি

ত্বক দ্রুত ঠান্ডা করতে হলে বরফের চেয়ে ভালো উপায় আর কী হতে পারে! পরিষ্কার রুমালে বরফ মুড়ে মুখে আলতো করে বুলিয়ে নিন। মুখের প্রদাহ কমবে, রক্ত সংবহন বেড়ে মুখের উজ্জ্বলও দেখাবে।

পরের স্টোরি :

পেট্রোলিয়াম জেলি আপনার এত কাজে লাগে জানতেন?

মন্তব্য

পরের স্টোরি

ফেমিনা বাংলা সৌন্দর্য ত্বক  পেট্রোলিয়াম জেলি আপনার এত কাজে লাগে জানতেন?

পেট্রোলিয়াম জেলি আপনার এত কাজে লাগে জানতেন?

লিখছেন মনীষা দাশগুপ্ত | May 10, 2020, 12:00 AM IST

পেট্রোলিয়াম জেলির নানান কাজ


খুব সাধারণ দেখতে একটা সাদা রঙের কৌটো, তাতে আরও সাদামাটা নীল ঢাকনা। কৌটোর ভিতরে রংহীন গন্ধহীন একটা সাদা জমাট তেলতেলে বস্তু। যখন বাহারি ক্রিম লোশন ময়শ্চারাইজারের সম্ভার বাজারে আসেনি, সে সময় ত্বকচর্চায় একমাত্র ভরসা ছিল এই সাদা কৌটো। শীতের দিনে ফাটা গোড়ালি, শুকনো কনুইয়ের যত্নই হোক বা সারা বছরের ঠোঁট ফাটা, সব কিছুরই তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ছিল সাদা কৌটোর উপর, যার পোশাকি নাম পেট্রোলিয়াম জেলি।


তবে পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে! তাই নানান রংবেরঙের সুগন্ধি ময়শ্চারাইজার, সিরাম, ফেস ক্রিম সত্ত্বেও কোণঠাসা হয়নি পেট্রোলিয়াম জেলি। বরং নিজের জায়গাটা দিব্যি ধরে রাখতে পেরেছে। বহু বাড়িতেই তার নিয়মিত উপস্থিতি। এখনও হাত-পা শুকনো লাগলে, ঠোঁট ফাটলে পেট্রোলিয়াম জেলিই ব্যবহার করেন অনেকে। তবে জানেন কি, শুধু এটুকুই নয়, আপনার চিরপরিচিত পেট্রোলিয়াম জেলি দিয়ে আরও অনেক কাজ সেরে ফেলতে পারেন আপনি? অবাক হচ্ছেন? তা হলে পড়তে থাকুন।


সুগন্ধী দীর্ঘস্থায়ী করতে

পছন্দের পারফিউম মাখার আগে পালস পয়েন্টগুলোয় সামান্য পেট্রোলিয়াম জেলি ঘষে নিন। গন্ধ অনেকক্ষণ থেকে যাবে।


অবাধ্য চুল পোষ মানাতে

মুখে কুচো চুল উড়ে এসে পড়ছে? আঙুলে অল্প পেট্রোলিয়াম জেলি নিয়ে ঘষে চুলের উপর বুলিয়ে দিন। ভুরুর শেপ সুগঠিত করতেও পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন।


ঘরোয়া হাইলাইটার হিসেবে

মুখে বাড়তি উজ্জ্বলতা আনতে হাইলাইটারের দরকারই নেই! মুখের হাই পয়েন্টগুলোয় খুব অল্প পেট্রোলিয়াম জেলি ড্যাব করে নিলেই মুখ স্নিগ্ধ আর উজ্জ্বল দেখাবে।


দাগ তুলতে

জামায় মেকআপের দাগ লেগে গেছে? পাতলা সুতির কাপড় ভিজিয়ে তাতে অল্প পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে দাগের উপর ঘষুন। দাগ উঠে যাবে দ্রুত।


মেকআপ রিমুভার হিসেবে

হাতের কাছে পেট্রোলিয়াম জেলি থাকতে দামি মেকআপ রিমুভার কিনতে যাবেন কেন? মুখে ভালো করে পেট্রোলিয়াম জেলি মেখে নিন, তারপর তুলো দিয়ে মুছে ফেলুন। লিপস্টিক, কাজল, মাস্কারা, সব উঠে যাবে নিমেষে। এমনকী, ওয়াটারপ্রুফ মেকআপও ঝটপট উঠিয়ে দিতে পারে পেট্রোলিয়াম জেলি।


নিখুঁত নেল পলিশ পরতে

নখে নেল পলিশ পরতে গিয়ে নখের বাইরে লেগে যায়, কিছুতেই নিখুঁত হয় না? সেরকম হলে নেল পলিশ পরা শুরু করার আগে নখের চারপাশের চামড়ায় অল্প পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে নিন। তা হলে রং ধেবড়ে গেলেও ত্বকে এঁটে বসবে না, হালকা করে মুছে নিলেই উঠে যাবে আর আপনার নেল পলিশ ফিনিশিং হবে একদম নিখুঁত!

গোলাপজল মানেই ত্বকে স্নিগ্ধ শীতল অনুভূতির সঙ্গে মনকাড়া সুগন্ধ





সৌন্দর্যের সঙ্গে গোলাপের সম্পর্ক বরাবরই নিবিড়! আর এই গরমে নিমেষে তরতাজা হয়ে উঠতে গোলাপজলের এক ঝলক হালকা মিষ্টি সুগন্ধই যথেষ্ট! ত্বকের যত্নেও গোলাপজলের ব্যবহার বহুল প্রচলিত। ফেস মাস্কের উপাদান হিসেবে, টোনার বা ফেস মিস্ট হিসেবে গোলাপজল ত্বককে স্নিগ্ধ, আর্দ্র আর সতেজ রাখে। তা ছাড়া টেনশন কাটিয়ে মন হালকা করতেও জুড়ি নেই গোলাপজলের সুবাসের। দেখে নিন আপনার রূপচর্চার কাজে কী কী ভাবে ব্যবহার করতে পারেন গোলাপজল।

মাস্ক লাগানোর আগে
মুখে ঘরোয়া ফেসপ্যাক লাগানোর আগে তুলোয় করে গোলাপজল নিয়ে সারা মুখে লাগিয়ে নিন। ত্বক আগে থেকে পরিষ্কার করে নেবেন। মুখে গোলাপজল লাগানোর পরে ফেসপ্যাক লাগান। তাতে ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা বাড়বে, গোলাপজলও ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ত্বক আর্দ্র রাখবে।

টোনার হিসেবে গোলাপজল
কেমিক্যালে ভরা টোনারের চেয়ে গোলাপজল অনেক বেশি লোভনীয় অপশন। গোলাপজলের অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণ ত্বক স্নিগ্ধ করে, ত্বকের জ্বালাভাব, র‍্যাশ কমায়। তুলোয় করে নিয়ে মুখে বুলিয়ে নিন, ত্বক ঠান্ডা হয়ে যাবে নিমেষে।

কাটাছেঁড়া, র‍্যাশ কমাতে
গোলাপজলের মধ্যে হালকা অ্যাস্ট্রিনজেন্ট ও অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল গুণ রয়েছে। তাই হাত-পা শেভ করতে গিয়ে কেটে গেলে বা কোথাও দানা দানা র‍্যাশ বেরোলে চোখ বন্ধ করে ভরসা রাখুন গোলাপজলের উপরে। তুলোয় করে লাগিয়ে নিন জায়গাটায়, ব্যস, নিশ্চিন্ত!

শুষ্ক ত্বকের সমস্যায়
আপনার ত্বক কি খুব রুক্ষ আর শুকনো? তা হলে প্রতিবার ময়শ্চারাইজার মাখার আগে আপনার দরকার গোলাপজল। স্প্রে বোতলে গোলাপজল ভরে রাখুন। স্নানের পর আগে সারা শরীরে স্প্রে করে নিন, তারপর সঙ্গে সঙ্গে ময়শ্চারাইজার মেখে ফেলুন। গোলাপজল ময়শ্চারাইজারের আর্দ্রতা ত্বকের গভীরে ঢুকতে সাহায্য করবে।

পিএইচ ব্যালান্স
আপনার ত্বক কি ইদানীং খুব অদ্ভুত আচরণ করছে? মানে আজ খুব তেলতেলে লাগছে, তো কালই ভীষণ টান ধরছে মুখে? এমন হলে এর কারণ, হয়তো আপনার পিএইচ ভারসাম্যে কিছু গোলমাল হচ্ছে। তবে ভাবনা নেই, এ ক্ষেত্রেও আপনাকে সাহায্য করবে গোলাপজল। মুখের পিএইচ ব্যালান্স ফিরিয়ে এনে ত্বক সুস্থ করে তোলার ক্ষমতা রয়েছে গোলাপজলের। সাধারণ জলের বদলে কয়েকবার মুখে গোলাপজলের ঝাপটা দিন, ত্বক দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।

স্নানের সময়
এই গরমের দিনে একটা স্বস্তির স্নান চাইছেন? এসেনশিয়াল অয়েলের বদলে স্নানের জলে মিশিয়ে দিন গোলাপজল। শরীর, মন দুইই তরতাজা হয়ে উঠবে, ভিতরে ভিতরে এক আশ্চর্য শান্তি পাবেন। বাড়তি পাওনা হিসেবে গোলাপের মনকাড়া সুগন্ধ তো রইলই!

স্পায়ের আরাম মিস করছেন? এই সপ্তাহান্তে বাড়িতেই ট্রাই করবেন নাকি?





সারাটা দিন শুধু কাজ আর কাজ! নানারকমের কাজ করতে করতেই কেটে যায় লকডাউনের দিনগুলো, নিজেকে একটু প্যাম্পার করার সময় বা উপায় কোনওটাই মেলে না! পার্লার বন্ধ থাকার দরুন একটা যে বডি স্পা করাবেন, সে গুড়েও বালি! তবে চিন্তা নেই, সামনেই উইকএন্ড আসছে আর এই উইকএন্ডে বহু আকাঙ্ক্ষিত সেই স্পা করার সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন আপনি। না, তার জন্য পার্লারে যাওয়ার প্রশ্নই নেই, বাইরেও বেরোতে হবে না। একদম নিজের বাড়ির আরামে বসেই পেয়ে যাবেন এক্সক্লুসিভ স্পায়ের আমেজ! শুধু হাতে দরকার খানিকটা সময়। সপ্তাহান্তের অবসরে ঘণ্টাদুয়েক অবসর থাকলেই হল! কীভাবে স্পা নেবেন, তার কিছু টিপস দিয়ে দিলাম আমরা।

স্নানের জলটা খুব হালকা গরম করে নিন। এই গরমে শরীরে ঠান্ডা জল ঢাললে দারুণ আরাম লাগবে ঠিকই কিন্তু মাসলগুলো শিথিল হওয়ার অবকাশ পাবে না। জলটা অল্প গরম করে নিয়ে গায়ে ঢাললে প্রতিটি রোমকূপ খুলে যাবে, শরীরের গ্রন্থিগুলোও শিথিল হতে শুরু করবে।

প্রথমে পায়ের যত্ন থেকে শুরু করা যাক, কারণ পায়ের উপর দিয়েই সারাদিনের বেশিরভাগ ঝক্কিঝামেলাটা যায়। পায়ে ব্যথা থাকলে নিতে পারেন ফুট বাথ। জল হালকা গরম করে গামলায় ঢেলে নিন। তাতে খানিকটা সুগন্ধী এপসম সল্ট ভালো করে মিশিয়ে নিন। যে কোনও ওষুধের দোকানে বা অনলাইনে এপসম সল্ট পাবেন। এবার গামলার জলে পা ডুবিয়ে মিনিট দশেক বসে থাকুন। আরাম তো পাবেনই, ব্যথাবেদনাও অনেক কমে যাবে।

যাঁদের বাথরুম একটু বড়ো, তাঁরা বাথটব রাখার কথা ভাবতে পারেন। বাথটবে তৈরি করে নিন বাবল বাথ। বাথটবের জলে কিছুক্ষণ চুপচাপ শরীর ডুবিয়ে শুয়ে থাকার যে আরাম, তার তুলনা হয় না! বাথটব না থাকলেও কিছু যায় আসে না! বালতিতে স্নানের জলে খানিকটা সুগন্ধী এসেনশিয়াল অয়েল ঢেলে দিন। এবার ওই জলে স্নান করুন। শরীরের প্রতিটি কোনা সুগন্ধে ভরে উঠবে! কোনও সিন্থেটিক সুগন্ধ ব্যবহার করবেন না কিন্তু! ভরসা রাখুন খাঁটি এসেনশিয়াল অয়েলে।

পিঠে বা কোমরে ব্যথা থাকলে বালতির জলেও মিশিয়ে নিতে পারেন বাথ সল্ট বা এপসম সল্ট। গায়ে জল ঢাললেই আরাম পাবেন।

অল্প ঠান্ডা দুধে কিছুটা গোলাপজল মিশিয়ে পাতলা করে নিন। কিছু গোলাপ পাপড়ি থেঁতো করে মিশিয়ে দিন ওই জলে। এবার পাতলা মসলিন বা আদ্দির কাপড় দুধজলের মিশ্রণে ভিজিয়ে মুখে খানিকক্ষণ চাপা দিয়ে রাখুন। মুখের ত্বক উজ্জীবিত হয়ে উঠবে।

স্নানের সময় প্রাকৃতিক লুফা দিয়ে গা ঘষে নিন। সমস্ত মৃত কোষ উঠে গিয়ে ত্বক কোমল আর ঝকঝকে হয়ে উঠবে। এই সময়টায় কিছুটা মাসাজও নিতে পারেন। আঙুলের ডগা দিয়ে পিঠ, ঘাড়, পায়ের পাতা আর গোড়ালি মিনিট দশেক চেপে চেপে মাসাজ করে নিন, অনেকটা হালকা লাগবে।

হাতের কাছে রাখুন পরিষ্কার, নরম সুতির তোয়ালে। স্নানের পর চেপে চেপে গা মুছে জলটা শুষে নিন। স্নান সেরে গা অল্প ভেজা থাকতে থাকতেই ভালোভাবে ময়শ্চারাইজ়ার মেখে নিন। ভেজা ত্বকে ময়শ্চারাইজ়ার ভালো করে শুষে যেতে পারে।



সকালবেলার এই কয়েকটি অভ্যেস বাড়িয়ে দিতে পারে আপনার ত্বকের জেল্লা


কথায় বলে মর্নিং শোজ দ্য ডে! কাজেই সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনি কী কী করছেন, তার উপরেই অনেকটা নির্ভর করে আপনার ত্বকের হালহকিকত! সত্যি বলতে সুস্থ জেল্লাদার ত্বক পেতে বিশেষ কিছু করার দরকার নেই! শুধু প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মেনে চলুন ছ'টি সহজ নিয়ম, ত্বকের সৌন্দর্য অটুট থাকবে।


লেবুর জল

শরীর ভিতর থেকে পরিষ্কার রোগমুক্ত রাখতে বিকল্প নেই লেবুর জলের। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গেলাস লেবু মেশানো হালকা গরম জল খাওয়ার অভ্যেস করতে পারলে আপনার লিভার ধন্যবাদ দেবে আপনাকে। লেবুর রসে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডান্ট আর ভিটামিন সি থাকে যা আপনার ত্বকে বাড়তি জৌলুস এনে দেবে।


হালকা ব্যায়াম করুন

আপনার ব্যায়ামের অভ্যেস থাকলে ভালো, না থাকলেও ঘাবড়ানোর কিছু নেই! মোটেই ট্র্যাকস্যুট পরে মাঠে নামতে হবে না! সাধারণ কিছু ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন, বাগানে বা বাড়ির ছাদে মিনিট দশেক জোরকদমে হাঁটলেও চলবে। সকালে ব্যায়াম করলে আপনার শরীর সারাদিন চাঙ্গা থাকে, তা ছাড়া ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের জেল্লাও বাড়ে।


মুখ ধুয়ে নিন

ঘুমোনোর সময় সারা রাত ধরে মুখে তেলময়লা জমতে থাকে। সকালে উঠে কোমল ফেসওয়াশ দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলুন, তারপর ফেস সিরাম বা হালকা ময়শ্চারাইজার মেখে নিন। সারাদিন তরতাজা লাগবে।


দরকার ভালো ময়শ্চারাইজার

যে ময়শ্চারাইজারটা রোজ মাখছেন সেটি আপনার ত্বকের উপযোগী কিনা সেটা আগে জানা দরকার। ময়শ্চারাইজার মাখার পরে ত্বকে টান না ধরলে বা ত্বক তেলতেলে না লাগলে বুঝতে হবে ময়শ্চারাইজার ঠিক আছে। ময়শ্চারাইজারে এসপিএফ থাকলে তা আপনাকে রোদ থেকেও সুরক্ষা দেবে।


মুখ এক্সফোলিয়েট করুন

ত্বকের উপরে মৃত কোষ জমে গেলে মুখ বিবর্ণ অনুজ্জ্বল দেখায়। সপ্তাহে অন্তত দু'বার ঘরোয়া স্ক্রাব দিয়ে মুখ এক্সফোলিয়েট করতে ভুলবেন না।


ডায়েটে রাখুন ফল আর সবজি

শাকসবজি আর ফল যে ত্বক ভালো রাখে, সে জানা কথা। তাই প্রতিদিন সকালের প্রথম খাবার অর্থাৎ ব্রেকফাস্টে যে কোনও ফল বা সবজি রাখার চেষ্টা করুন। গোটা ফল বা ফলের রস খেতে পারেন বা শাকসবজি পিষে গ্রিন স্মুদি বা জুস বানিয়ে খেতে পারেন। সকালে এরকম একটি পানীয় আপনার সিস্টেমকে ভিতর থেকে পরিষ্কার রাখবে, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে আর ত্বক হয়ে উঠবে জেল্লাদার।

কোভিড থেকে বাঁচতে দীর্ঘ সময় মাস্ক পরে থাকছেন? ত্বকের ক্ষতি হচ্ছে না তো?




কিছুদিন আগে একটা মিম খুব ঘুরছিল সোশাল মিডিয়ায়, হয়তো অনেকেই দেখে থাকবেন। কোভিড থেকে বাঁচতে একটানা মাস্ক পরে থাকার ফলে কেমন মুখে মাস্কের মতো দাগ হয়ে গেছে, সেটাই মিমের বিষয়বস্তু। আপাতভাবে মিমটি মানুষকে হাসানোর জন্য বানানো হলেও এর আড়ালে কিন্তু লুকিয়ে রয়েছে কঠিন সত্য। দীর্ঘদিন একটানা মুখে মাস্ক পরতে পরতে সত্যিই অনেকরকম ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঠিক যেমন একটানা ঘড়ি পরতে পরতে ওই জায়গাটা বরাবর ত্বকের রঙে তফাত হয়ে যায়, একই সমস্যা হতে পারে একটানা মাস্ক পরলেও। সঙ্গে ব্রণ, অ্যালার্জি, র‍্যাশের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে ত্বকে।

মাস্ক পরলে ত্বকে সমস্যা হয় কেন?
ঠিকভাবে মাস্ক পরলে তা নাক আর মুখের উপর চেপে বসে, ফলে বাতাস ঠিকমতো খেলে না। কাজেই ওই অংশের তাপমাত্রা আর আর্দ্রতা খুব বেড়ে যায়। নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, মাস্ক পরলে মুখ কতটা গরম আর ভেজা ভেজা লাগতে শুরু করে কিছুক্ষণ পর থেকেই? গরম আর ঘাম একসঙ্গে ত্বকে বিক্রিয়া করে, যার ফলে ব্রণ, ত্বকের রঙে তফাত, ট্রমা লাইনের মতো সমস্যা দেখা দেয়। কিছুদিন আগে ভাইরাল হওয়া নার্সদের মুখে সেই ট্রমা লাইনের ছবি নিশ্চয়ই মনে আছে?

প্রশ্ন হল, কোভিড থেকে বাঁচতে মাস্ক পরা যখন বাধ্যতামূলক, তখন ত্বকের সঙ্গে আপস করাই কি একমাত্র উপায়? আমাদের বক্তব্য, মোটেই নয়! মাস্ক তো পরতেই হবে, তবে সেই সঙ্গে জেনে রাখতে হবে কিছু কৌশল যাতে ত্বকটাও বাঁচে।

মাস্ক পরার ফলে ত্বকে কী কী ধরনের সমস্যা হতে পারে, আর তার থেকে বাঁচার উপায়ই বা কী? টিপস দিলাম আমরা, জেনে রাখুন আপনিও! 

ব্রণর উৎপাত
নাক-মুখ একটানা চাপা মাস্ক দিয়ে ঢেকে রাখার ফলে ওই অংশে খুব ঘাম হতে থাকে। যাঁদের এমনিতেই ব্রণর ধাত, তাঁদের সমস্যা বেশি হয়। মুখের এই অংশ ব্রণয় ভরে যায়, ব্যথাও হয়। এ ক্ষেত্রে স্পট ট্রিটমেন্ট সবচেয়ে ভালো কাজ দেবে। ব্রণ নিরাময়ের যে সব ক্রিম ওষুধের দোকানে পাওয়া যায়, তা ব্যবহার করে দেখুন। চন্দন বেটে ব্রণর উপরে লাগালে আরাম পাবেন। বাইরে থেকে ফিরে মুখ অয়েল-ফ্রি ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে হালকা ময়শ্চারাইজার লাগান।

ঘামের সমস্যা
একে প্রচণ্ড গরম, তার উপর মাস্কে নাকমুখ ঢাকা, এ অবস্থায় ঘাম তো হবেই! আপনার সর্দিকাশির মতো কোনও উপসর্গ না থাকলে বাড়ির ভিতরে মাস্ক পরে থাকার দরকার নেই। বাইরে যাওয়ার সময় ব্যাগে ওয়েট টিস্যু রাখুন। মুখ ঘেমে গেলে টিস্যু দিয়ে মুছে নিন। সুতির কাপড়ের তৈরি মাস্ক পরতে পারেন, গরম একটু কম লাগবে।

লালচেভাব
যাঁদের ত্বক সেনসিটিভ, মাস্ক পরলে তাঁদের ত্বক লাল হয়ে যাওয়ার বা র‍্যাশ বেরোনোর আশঙ্কা থেকেই যায়। অনেক সময় জায়গাটা চুলকোয়, আঁশের মতো চামড়া উঠতে থাকে। মাস্কের মেটেরিয়ালের সঙ্গে ত্বকের বিক্রিয়ায় এমন হয়ে থাকে। বাড়ি ফিরেই মাস্ক খুলে ফেলুন। ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন জায়গাটা। তারপর অ্যালো ভেরা জেল লাগিয়ে নিলে ধীরে ধীরে লালচেভাব কেটে যাবে।

অ্যালার্জি
মুখে মাস্ক পরলেই জ্বালা করছে, চুলকোচ্ছে, দানা দানা বেরোচ্ছে? সম্ভবত মাস্কের উপাদানটি আপনার ত্বকের সঙ্গে মানানসই নয়। মাস্কের ধরন বদলে দেখুন। গেঞ্জি কাপড়ের বদলে সুতির মাস্ক পরুন। অ্যালার্জির কারণে সমস্যা হলে কমে যাওয়ার কথা।

ত্বকের রঙে তফাত
একটানা কোনও জায়গা চাপা থাকলে সে অংশে রঙের তফাত হয়ে যায়। এই কারণে ঘড়ির ব্যান্ডের নিচে, চটির স্ট্র্যাপের ঠিক নিচের অংশে চামড়ার রং বাকি অংশের চেয়ে হালকা দেখায়। একটানা মাস্ক পরার অভ্যেস করে ফেললে আপনার মুখেও একই অবস্থা হবে, অর্থাৎ মাস্কের ঠিক নিচের অংশটুকুর রং মুখের বাকি অংশের চেয়ে হালকা দেখাবে। মাস্ক পরা বন্ধ করার উপায় যখন নেই, তখন এ থেকে বাঁচার একটাই উপায়, পুরো মুখ ঢেকে ফেলা। বাইরে বেরোলে মাস্কের বদলে সুতির নরম স্কার্ফ বা ওড়না দিয়ে পুরো মুখ আর মাথা জড়িয়ে নিন, চোখে পরুন রোদচশমা। তাতে কোভিড থেকেও বাঁচবেন, আবার আপনার অমূল্য ত্বককেও বাঁচাতে পারবেন।


বিশেষ টিপস
পরিষ্কার শুকনো মাস্ক পরুন: ভেজা মাস্ক থেকে ত্বকে সংক্রমণ হতে পারে, প্রদাহ তৈরি হতে পারে। বাইরে বেরোলে সঙ্গে দু' তিনটি বাড়তি মাস্ক রাখুন। ভিজে গেলেই বদলে নিন,

মাস্ক পরার আগে মুখে ভারী ক্রিম বা ময়শ্চারাইজার মেখে নিন: শিয়া বাটার, কোকো বাটার, জোজোবা অয়েল আপনার ত্বকে বাড়তি সুরক্ষা জোগায়। তাই আগে মুখে ভালো করে ময়শ্চারাইজার মেখে তবেই মাস্ক পরবেন।

মেকআপ হালকা রাখুন: মাস্ক পরলে আপনার মুখ ঘামবেই। তার উপর মুখে ভারী মেকআপ করলে তা ঘামের সঙ্গে মিশে ত্বকে বিক্রিয়া করতে পারে। তাই মেকআপ খুব হালকা রাখুন, ফাউন্ডেশন, কমপ্যাক্ট যতটা সম্ভব কম মাখুন এ ক'টা দিন।

ত্বকের নিয়মিত যত্ন নিন: মুখ নিয়মিত পরিষ্কার করে টোনার আর ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে রাখুন। অ্যালো ভেরা বেসড টোনার আর ময়শ্চারাইজার ত্বক স্নিগ্ধ রাখবে।

ভরসা থাক বরফে: ত্বক খুব জ্বালা করলে বা লাল হয়ে গেলে বরফের কমপ্রেস নিতে পারেন। পাতলা কাপড়ে বরফ মুড়ে লাল হয়ে যাওয়া অংশে ধীরে ধীরে লাগালে আরাম পাবেন।